Breaking News
Home / বাংলাদেশ / এবার আন্দালিবের ওপর চটেছেন জোট নেতারা, যা বললেন

এবার আন্দালিবের ওপর চটেছেন জোট নেতারা, যা বললেন

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর ওপর চোটেছেন ২০-দলীয় জোটের শরিকরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটের সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে পার্থর দেওয়া বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন নেতারা। বিষয়টি নিয়ে জোটের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে বলেও জানাচ্ছেন একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতা।

গত ২৪ মার্চ (শনিবার) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলের বৈঠকটি ডাকা হয়। ওই বৈঠকেই ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ের দায়িত্ব বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে সে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেলে বৈঠকে আন্দালিবের, নেতাদের ভাষায় ‘ঔদ্ধত্বপূর্ণ’ আচরণের বিষয়টি ঢাকা পরে।

তবে একাধিক নেতা সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে টেলিফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, বৈঠকে আন্দালিব রহমান পার্থ একাধিক শরিক দলের কর্মকাণ্ড, সামনে নির্বাচন রেখে তাদের গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তা নিয়ে বৈঠকের কাছে ব্যাখ্যা চান। তার আক্রমনের নিশানায় অন্যতম ছিলো কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি।

বৈঠক সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পার্থ জানতে চান ‘কীসের ভিত্তিতে জোটের কয়েকটি শরিকদল তাদের প্রার্থী তালিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে? কেউ ৩০, কেউ ১৫, কেউবা ১২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করছে— এর একটা ব্যাখা থাকতে হবে।’

শরিক নেতাদের অভিযোগ, বৈঠকে বক্তব্যের সময় আন্দালিব রহমান পার্থ’র শরীরী ভাষা ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ। ঝাঁঝালো ভাষায় বক্তব্যদানে পটু সাবেক সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে সব সময় জোট শরিকদের ‘খাটো’ করে কথা বলেন বলেও অভিযোগ তাদের।

সূত্রমতে, তখনও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পার্থ ব্যাখ্যা চাইলেও বৈঠকে উপস্থিত জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

সংবাদ মাধ্যমে আসা নামের তালিকা সম্পর্কে তারা বলেন, শরিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থী থাকতেই পারেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারা হয়তো প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। কিন্তু জোটের কোনো শরিকদল সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীর নামের তালিকা ঘোষণা করেনি। সাংবাদিকদের কাজ অনুসন্ধানের মাধ্যমে রিপোর্ট বের করে আনা— সেটাই তারা করেছেন।
এ বিষয়ে আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে কথা হয় সারাবাংলার। তিনি বলেন, ‘জোট শরিকদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমি কথা বলি। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে আনা ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

তিনি বলেন, ‘জোটের কোনো শরিক দলের কাছে আমি কৈফিয়ত তলব করিনি। শুধু বিএনপির মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়েছি, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রার্থী তালিকা কীভাবে মিডিয়ায় আসছে? তাহলে কি আমরা খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাচ্ছি?

এ প্রসঙ্গে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জোটের বৈঠকে যে কেউ যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে তা যেন শোভন হয়। সবাইকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমরা কোনও শরিক দলের কাছে আমাদের কাজের ব্যাখ্যা দেব না। ব্যাখ্যা যদি দিতে হয়, বিএনপিকে দেব।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ২০ দলীয় জোটের প্রথম বৈঠকে জোট শরিকরা বিএনপিকে আশ্বস্ত করে, খালেদা জিয়াকে ছাড়া কেউ নির্বাচনে যাবে না। আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার পরই নির্বাচনে যাবে তারা।

কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে যাওয়ায় জোট শরিকরা এখন বলছে, মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে হবে। নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হলে এখনই মাঠে নেমে পড়তে হবে।
কিন্তু কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন— সেটি চূড়ান্ত না হওয়ায় জোট শরিকরা পড়েছেন দোটানায়। নির্দিষ্টি একটি আসনে বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থী কাজ করবেন, নাকি জোটের শরিক দলের আগ্রহী প্রার্থী কাজ করবেন— সে বিষয়টি ফায়সালা হওয়া দরকার বলে মনে করছে জোট শরিকরা।

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া এক বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে জোটগতভাবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখইন বিএনপিকে পরিষ্কার বক্তব্য দিতে হবে।’

এ বক্তব্যের কয়েকদিন পরই জোটের কয়েকটি শরিক দলের সম্ভব্য প্রার্থী তালিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। সে বিষয়টি নিয়েই শনিবারের বৈঠকে কথা বলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

এ প্রসঙ্গে সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এখনো অনেক দেরি। এক মাসের নোটিশে আমরা নির্বাচনে যেতে সক্ষম। আমাদের এখন একমাত্র এজেন্ডা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা— সে বিষয়টিই আমি বলতে চেয়েছি। এ নিয়ে জোটে অস্থিরতা সৃষ্টির কিছু দেখছি না।’

এ প্রসঙ্গে জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘সবারই উচিত পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখে কথা বলা। একজন আরেকজনকে খাটো করে কথা বলবেন— এটা কারো কাম্য না।’

তবে বৈঠকে যা হয়েছে, সেটা বৈঠকেই শেষ বলেই মন্তব্য করেন এই জাগপা নেতা।

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পরস্পর পরস্পরের কাছ থেকে শোভন আচরণ আশা করি। এখানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বি নয়। সবাই আমরা একত্রিত হয়েছি একটা লক্ষ্যে পৌঁছানর জন্য। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝা-বুঝি সৃষ্টি হলে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

Check Also

তারেককে সরিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান?

তারেক জিয়াকে বিএনপি প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: