Breaking News
Home / অর্থনীতি / বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি মামলার তদন্তে দুদকের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিয়ে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছেন। ১৮০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও দুই বছর বেসিক ব্যাংকের ঋণবিষয়ক মামলার রিপোর্ট না দেয়ায় আদালত বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বসে বসে কী করেছে?

বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় সেলিম নামের এক আসামির জামিন শুনানিকালে এমন মন্তব্য করেন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন ড. শাহদিন মালিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন  দুদকের স্বচ্ছতার অভাব, দক্ষতার অভাব। আমরা সেটা মেনেই নিচ্ছি। দক্ষতা অবশ্যই আমরা বাড়াব। স্বচ্ছতা আছে, স্বচ্ছতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করব। আদালতের প্রতিটি আদেশ-নির্দেশ আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আদালতের নির্দেশ পালনে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’

তিনি বলেন, আমরা আমাদের অসুবিধার কথা আদালতের কাছে বলেছি। কিন্তু আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। কারণ দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিতে আছে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে হবে। যেটা সর্বশেষ সংশোধনী হয়ে আসছে ১৮০ দিন। সেখানে দুই বছর অতিক্রম হয়েছে। আদালতের প্রশ্ন ছিল তাহলে দুদক বসে বসে কী করেছে?

আদালতের নির্দেশনা দুদক প্রতিপালন করছে উল্লেখ করে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘চার্জশিট (বেসিক ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত মামলা) অচিরেই হয়ে যাবে। ৪৮টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলা এরই মধ্যে অনুমোদন দেয়ার জন্য পেন্ডিং আছে। দুদকের চেয়ারম্যান মহোদয় একটি সেমিনারে যোগ দিতে দেশের বাইরে গেছেন সামনের সপ্তাহে এলে আশা করি সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। এছাড়া আদালত যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দুদক সেগুলো খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের আলোকেই বাকি কাজ সম্পাদন করবে।’

তিনি বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু কোথায় সেটা আপনাদের যেমন প্রশ্ন, আদালতেরও প্রশ্ন, সাধারণ মানুষেরও প্রশ্ন। আশা করি, অচিরেই দুদক ৪৮টি মামলার চার্জশিট দিতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আব্দুল হাই বাচ্চুকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে দুদকের বাধা কোথায় জানতে চাইলে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুদকের কোনো বাধা নেই। দুদক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলা করে। আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে যদি ক্রেডিবল অ্যাভিডেন্স পাই তাহলে আব্দুল হাই বাচ্চু হোক আর যেই হোক, অবশ্যই তিনি মামলার আসামি হবেন। এখানে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কিন্তু উনার বিরুদ্ধে ক্রেডিবল অ্যাভিডেন্স থাকতে হবে।’

বেসিক ব্যাংকের বোর্ড ডিরেক্টর যারা ঋণের অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাদের কেন আসামি করা হয়নি এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম খান বলেন,‘ বোর্ড অব ডাইরেক্টরদের মধ্যে যারা ছিল তাদের মধ্যে একজন ছিল ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী ফখরুল ইসলাম মামলার আসামি। তিনি জেলে আছেন। বাকি বোর্ড অব ডিরেক্টর যারা আছেন আমরা উনাদের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার ওই সময়টা উনাদের কর্মকাণ্ড তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। যদি পাওয়া যায় অবশ্যই তারা আসামি হবেন। ’

এ বিষয়টি তদন্ত করতে কতদিন লাগতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ আমি মনে করি, বেশি দিন লাগবে না। খুব সহসাই এটা হয়ে যাবে।’

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আজকের মামলার আসামি বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঋণ পর্যালোচনা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। এই কমিটিতে ১৫-১৬ জন করে সদস্য থাকে। কোনো ঋণ প্রস্তাবই তারা করেনি। প্রত্যেকটি ঋণ প্রস্তাবে তারা নেতিবাচক পর্যালোচনা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি কমিটি থেকে একজন বা দুজন সদস্যকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দেড় বছর-দুই বছর ধরে জেলে আটকে আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতও মন্তব্য করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি দুদকের মামলা করতে গিয়ে খুবই হতাশ হয়েছি। এখানে কোনো দক্ষতা-যোগ্যতা নেই। এসব দুর্নীতি তো দেশে অবশ্যই হচ্ছে। যারা দুর্নীতি করছে তাদের ধরার মতো, আইনের আওতায় আনার মতো দক্ষতা-যোগ্যতা এবং নিষ্ঠা থাকতে হবে, আমার মনে হয়- সেটার অভাব আছে। কোর্ট বলেছে, একই মামলায় আপনারা কাউকে ধরবেন কাউকে ধরবেন না- এটা তো পিক অ্যান্ড চুজ।

সুত্রঃখালিজ টাইম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: